আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় হলো ক্র্যাংকিং মোটর। আধুনিক যানবাহনের ইঞ্জিন স্টার্ট করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ক্র্যাংকিং মোটরের ভূমিকা অপরিসীম। এটি ইঞ্জিনকে প্রথমে ঘুরিয়ে দেয় যাতে ইঞ্জিন নিজে থেকে কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
এই আলোচনায় আমরা ক্র্যাংকিং মোটরের কাজ, গঠন, প্রকারভেদ এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানব। ইঞ্জিন স্টার্টিং সিস্টেমে ক্র্যাংকিং মোটরের গুরুত্ব ও ব্যবহারিক দিকগুলো বুঝে নেওয়া আধুনিক অটোমোবাইল প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
চলুন, ক্র্যাংকিং মোটরের জগতে গভীরভাবে প্রবেশ করি এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করি।
ক্র্যাংকিং মোটর (Cranking Motor)
ক্র্যাংকিং মোটরের প্রয়োজনীয়তা (Necessity of Cranking Motor) :
আধুনিক অটোমোবাইল প্রযুক্তির একটি অপরিহার্য উপাদান হলো ক্র্যাংকিং মোটর, যা ইঞ্জিন চালুর প্রাথমিক ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মূলত ইঞ্জিনের ফ্লাই হুইল ঘুরিয়ে ইঞ্জিনকে স্টার্ট করতে সহায়তা করে। ক্র্যাংকিং মোটরের প্রয়োজনীয়তা নীচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ইতিহাস ও পূর্ববর্তী পদ্ধতি:
অটোমোবাইল ইঞ্জিনের শুরুতে ব্যাটারির ব্যবহার না থাকায়, ইঞ্জিন চালুর জন্য হ্যান্ডেল ব্যবহার করা হতো। ম্যাগনেটো ইগনিশন সিস্টেম দ্বারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো, যা একটি প্রাথমিক ও শারীরিক শ্রমনির্ভর পদ্ধতি ছিল।
২. ধাক্কা পদ্ধতি:
প্রথম দিককার মোটরগাড়িগুলোকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চালু করতে হতো। এটি কেবল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্যই ছিল না, বরং শহরের রাস্তাঘাটে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
৩. প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সুবিধা:
এই অসুবিধা দূর করতে এবং চালকের সুবিধার্থে গাড়িতে স্টার্টিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়, যার মুখ্য উপাদান হলো ব্যাটারি ও ক্র্যাংকিং মোটর। ফলে, চালক ইগনিশন সুইচ ঘুরিয়ে খুব সহজেই গাড়ি স্টার্ট করতে পারেন—অতিরিক্ত সাহায্য ছাড়াই, স্বল্প সময় ও পরিশ্রমে।
৪. ক্র্যাংকিং মোটরের অবস্থান ও কাজ:
ক্র্যাংকিং মোটরটি সাধারণত ইঞ্জিনের ফ্লাই হুইল হাউজিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এর একমাত্র কাজ হলো—ইঞ্জিন চালু করা। এই কারণেই একে স্টার্টিং মোটর নামেও ডাকা হয়।
৫. স্টার্টিং সিস্টেম:
যে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্র্যাংকিং মোটর আবর্তিত হয়ে ইঞ্জিনকে চালু করে, তাকেই বলা হয় স্টার্টিং সিস্টেম। এই সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়ির ইঞ্জিন যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্যভাবে চালু করা সম্ভব হয়।

ক্র্যাংকিং মোটরের শ্রেণিভেদ (Types of Cranking Motor) :
ক্র্যাংকিং মোটর ইঞ্জিনের ফ্লাই-হুইল হাউজিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইঞ্জিন চালু করার প্রাথমিক গতি সরবরাহ করে। যানবাহনের আকার, ওজন এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতা অনুসারে এর ড্রাইভিং ব্যবস্থাও ভিন্ন হয়ে থাকে। এ কারণে ক্র্যাংকিং মোটরকে ব্যবহার উপযোগিতার ভিত্তিতে নিচের পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. বেনডিক্স টাইপ বা ইনারশিয়া টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর
এই ধরনের ক্র্যাংকিং মোটরে ইনারশিয়া অব মোশন-এর ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন হয়। বেনডিক্স গিয়ারের মাধ্যমে ফ্লাই-হুইলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পিস্টনকে প্রথমবার ঘোরানো হয়, যার ফলে ইঞ্জিন চালু হয়। এটি আকারে হালকা এবং সাধারণত মোটরসাইকেল, ছোট গাড়ি বা লাইট-ডিউটি যানবাহনে ব্যবহৃত হয়।
২. সলিনয়েড টাইপ বা প্রি–ইনগেজমেন্ট টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর
এই মোটরে একটি অতিরিক্ত সলিনয়েড ইউনিট যুক্ত থাকে, যা বৈদ্যুতিক সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভিং গিয়ারকে ফ্লাই-হুইলের দিকে অগ্রসর করে এবং স্টার্ট দেওয়ার পর আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন একটি স্টার্টিং সিস্টেম। সাধারণত মাঝারি ও বড় গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং ট্রাক্টরে এই মোটর ব্যবহার করা হয়। এটি আধুনিক গাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
৩. আর্মেচার টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর
এই ধরনের মোটরে ক্র্যাংকিং মোটরের আর্মেচার নিজেই ফ্লাই-হুইলের দিকে এগিয়ে গিয়ে ইঞ্জিন স্টার্ট করে এবং কাজ শেষে নিজ অবস্থানে ফিরে আসে। এটি শক্তিশালী ও টেকসই হওয়ায় সাধারণত ভারী ট্রাক, বাস, বড় যানবাহন এবং জাহাজের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়। এর উচ্চ ক্ষমতা ও শক্তিশালী টর্কের জন্য একে হেভি ডিউটি ক্র্যাংকিং মোটর বলা হয়।
৪. স্লাইডিং গিয়ার টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর
এই মোটরের গিয়ার মেকানিজমটি ফ্লাই-হুইলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং আবর্তনের মাধ্যমে ইঞ্জিন চালু করে। এটি সাধারণত রেলওয়ে ইঞ্জিন, ভারী ট্রাক ও জাহাজের ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, যেখানে অধিক শক্তির প্রয়োজন হয়।
৫. স্লাইডিং গিয়ার উইথ ইন্টারমিডিয়েট ট্রান্সমিশন টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর
এই জাতীয় ক্র্যাংকিং মোটরে একটি ইন্টারমিডিয়েট গিয়ার ট্রেন বা ট্রান্সমিশন বক্স সংযুক্ত থাকে, যা অতিরিক্ত যান্ত্রিক সুবিধা প্রদান করে। এতে স্টার্টার গিয়ারটি ফ্লাই-হুইলের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। এই ধরনের শক্তিশালী স্টার্টার সাধারণত বিশাল যানবাহন, মাটি কাটার যন্ত্রপাতি, ট্রেন ও মেরিন ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়।
এই পাঁচটি ধরন ছাড়াও আধুনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে আরও কিছু উন্নতমানের ইলেকট্রনিক ক্র্যাংকিং মোটর ব্যবহৃত হচ্ছে, যা উন্নত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করে।

ফ্যাংকিং মোটরের বিদ্যুৎ প্রবাহ বর্তনী (Electric Circuit of Cranking Motor):
একটি অটোমোবাইল ইঞ্জিন স্টার্ট করার সময় ক্র্যাংকিং মোটরের সঠিক বৈদ্যুতিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্র্যাংকিং মোটরের মাধ্যমে ব্যাটারি থেকে প্রাপ্ত বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে ইঞ্জিন ঘোরাতে সাহায্য করে।
প্রধানত অটোমোবাইল গাড়িতে দুটি ধরনের ক্র্যাংকিং মোটর ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যাদের বৈদ্যুতিক বর্তনী নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বেনডিক্স টাইপ বা ইনার্শিয়া টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর (Bendix or Inertia Type Cranking Motor):
এই ধরনের মোটরে স্টার্টিং সার্কিট সম্পন্ন করার জন্য ব্যাটারি, ইগনিশন সুইচ এবং ক্র্যাংকিং মোটরের মধ্যে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা হয়।
এই সিস্টেমে যখন স্টার্টার সুইচ চালু করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি ক্র্যাংকিং মোটরে প্রবাহিত হয়, এবং মোটরের অভ্যন্তরীণ বেনডিক্স গিয়ার পিস্টন ঘোরাতে সাহায্য করে। এটি সাধারণত অপেক্ষাকৃত সহজ এবং পুরাতন মডেলের গাড়িতে ব্যবহৃত হয়।
মূল উপাদানসমূহ:
- ব্যাটারি
- ইগনিশন সুইচ
- স্টার্টিং মোটর
- বেনডিক্স গিয়ার
- স্টার্টার রিলে (কিছু ক্ষেত্রে)
২. সলিনয়েড টাইপ বা প্রি-ইগনিশন টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর (Solenoid or Pre-Ignition Type Cranking Motor)
এই আধুনিক বৈদ্যুতিক সার্কিটে স্টার্টিং মোটরের সঙ্গে একটি সলিনয়েড ইউনিট যুক্ত থাকে, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং একত্রে মোটর ও গিয়ার এনগেজ করে ইঞ্জিন স্টার্ট করতে সাহায্য করে।
এ সার্কিটে যখন ইগনিশন সুইচ ঘোরানো হয়, তখন প্রথমে সলিনয়েড সক্রিয় হয়ে ব্যাটারি থেকে মোটরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একই সঙ্গে সলিনয়েড একটি পুশিং অ্যাকশনের মাধ্যমে মোটরের পিনিয়ন গিয়ারকে ফ্লাই হুইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং ইঞ্জিন ঘোরানো শুরু হয়।
মূল উপাদানসমূহ:
- ব্যাটারি
- ইগনিশন সুইচ বা স্টার্টিং সুইচ
- সলিনয়েড ইউনিট
- স্টার্টিং মোটর
- ফ্লাই হুইল
- মোটরের অভ্যন্তরীণ গিয়ার সংযোগ ব্যবস্থা
এই দুই ধরনের সার্কিটই ইঞ্জিন চালু করার জন্য ব্যাটারির বিদ্যুৎকে কাজে লাগিয়ে ইঞ্জিনে প্রাথমিক গতি প্রদান করে। তবে আধুনিক যানবাহনে সলিনয়েড টাইপ ক্র্যাংকিং মোটর ব্যবহারের হার বেশি, কারণ এটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

ক্রাংকিং মোটরের কার্যপ্রণালি (Working Procedure of Cranking Motor):
ক্র্যাংকিং মোটর একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে এবং ইঞ্জিন স্টার্ট করতে সহায়তা করে। এটি মূলত ডিসি মোটরের নীতিতে কাজ করে। যখন ব্যাটারি থেকে সরবরাহকৃত ডিসি বিদ্যুৎ ক্র্যাংকিং মোটরে প্রবেশ করে, তখন তার অভ্যন্তরে থাকা আরমেচার ঘূর্ণায়মান হতে শুরু করে।
এই ঘূর্ণায়মান আরমেচার একটি বিশেষ ড্রাইভ মেকানিজমের মাধ্যমে ইঞ্জিনের ফ্লাই হুইল-কে ঘোরাতে সাহায্য করে, যার ফলে ইঞ্জিনের প্রাথমিক গতি তৈরি হয় এবং ইঞ্জিন নিজে থেকে চলা শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকেই ক্র্যাংকিং বলা হয়।
মোটরের মৌলিক কার্যপদ্ধতি
ধরা যাক, একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী তারের লুপ বা কয়েল একটি চুম্বকীয় ক্ষেত্র বা ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মধ্যে রাখা হয়েছে। যখন এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন চুম্বকীয় ফোর্স লাইনের (Lines of Force) সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ার ফলে তারের উপর বল প্রয়োগ হয়, যার ফলে কয়েলটি ঘুরতে থাকে।
এই ঘূর্ণন ঘটার কারণ হলো বৈদ্যুতিক প্রবাহ ও চুম্বকীয় বলরেখাগুলোর মধ্যকার কোণ এবং প্রতিক্রিয়া। এভাবেই বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যখন একটি নয়, বরং একাধিক কয়েল বা লুপ ব্যবহার করা হয়, তখন এই ঘূর্ণনের ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যায়, এবং রোটর (Rotating Part) অধিক শক্তিতে আবর্তিত হয়।
এই রোটরকেই ক্র্যাংকিং মোটরে “আর্মেচার” বলা হয়, যা একটি শ্যাফটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই শ্যাফটের মাধ্যমেই ইঞ্জিনের ফ্লাই হুইলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হয় এবং ইঞ্জিন স্টার্টিংয়ের প্রাথমিক কার্য সম্পন্ন হয়।
ক্র্যাংকিং মোটর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- এটি ইঞ্জিন স্টার্ট করার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে।
- নিজে নিজে চলতে সক্ষম না এমন ইঞ্জিনকে প্রাথমিক গতি দেয়।
- আধুনিক যানবাহনে এটি স্টার্টিং সিস্টেমের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ডিসি মোটর হিসেবে এটি কমপ্যাক্ট, নির্ভরযোগ্য এবং শক্তিশালী।
ক্র্যাংকিং মোটরের সম্ভাব্য ত্রুটি সনাক্তকরণ পদ্ধতি (Detection of Possible Defect of Cranking Motor) :
যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের মতো, ক্র্যাংকিং মোটরেও বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। সময়মতো এসব ত্রুটি সনাক্ত করে মেরামত না করলে ইঞ্জিন স্টার্ট হতে ব্যর্থ হয়। নিচে ক্র্যাংকিং মোটরের কিছু সাধারণ ত্রুটি ও সেগুলোর সনাক্তকরণ পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ত্রুটি:
(ক) ফিল্ড কয়েলের ওপেন সার্কিট:
যদি ফিল্ড কয়েল কেটে যায় বা ওপেন সার্কিট থাকে, তবে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে না এবং যথাযথ ম্যাগনেটিক ফোর্স (Magnetic Line of Force) তৈরি হবে না। ফলে মোটর চালু হবে না।
সনাক্তকরণ পদ্ধতি: টেস্ট ল্যাম্প বা মাল্টিমিটার (AVO Meter) ব্যবহার করে ওপেন সার্কিট টেস্ট করে নির্ণয় করা যায়।
(খ) আর্থিং সংক্রান্ত ত্রুটি:
ফিল্ড কয়েল যদি বাইরের ধাতব অংশের সাথে শর্ট বা আর্থিং হয়ে যায়, তাহলে ত্রুটিপূর্ণ চৌম্বকীয় বল তৈরি হতে পারে না।
সনাক্তকরণ পদ্ধতি: অ্যাভোমিটার দ্বারা কন্টিনিউটি বা বডি টেস্টের মাধ্যমে এই ত্রুটি সনাক্ত করা যায়।
২. আর্মেচার বা রোটরের ত্রুটি:
আর্মেচারের ভিতরে থাকা কপার লুপ বা কয়েল শর্ট হলে রোটর ঘুরবে না বা দুর্বল ঘূর্ণন সৃষ্টি হবে।
সনাক্তকরণ পদ্ধতি: গ্রাউলার (Growler) নামক টেস্টিং যন্ত্র দিয়ে আর্মেচার পরীক্ষা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।
৩. কমিউটেটরের ত্রুটি:
কমিউটেটর বডি হয়ে গেলে বা লুপের সংযোগে শর্ট সার্কিট হলে মোটর সঠিকভাবে কাজ করবে না।
সনাক্তকরণ পদ্ধতি: টেস্ট ল্যাম্প বা অ্যাভোমিটার ব্যবহার করে শর্ট সার্কিট বা ভাঙা অংশ চিহ্নিত করা যায়।
৪. যান্ত্রিক ত্রুটি:
ক্র্যাংকিং মোটরের ফ্লাই হুইল অ্যাটাচমেন্ট একটি জটিল যান্ত্রিক কাঠামো। এতে যদি যান্ত্রিকভাবে কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে স্টার্টিংকালে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে বা মোটর অ্যাটাচমেন্ট ব্যর্থ হতে পারে।
সমাধান: যান্ত্রিক পরিদর্শন ও প্রয়োজনে মেরামতের মাধ্যমে ত্রুটি দূর করতে হবে। রোটরের বিয়ারিং গ্রিজিং বা তৈলাক্ত রাখাও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ।
প্রশ্নমালা-১১
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১. ব্যাটারি ব্যবহারের পূর্বে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করা হতো?
২. প্রাথমিক অবস্থায় অটোমোটিভ ইঞ্জিনকে কীভাবে চালু করা হতো?
৩. ইঞ্জিনকে সহজে চালু করার জন্য কী ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়?
৪. স্টার্টিং ব্যবস্থার মুখ্য যন্ত্রাংশের নাম লেখ ।
৫. ক্র্যাংকিং -মোটরের কাজ কী? ৬. স্টার্টিং সিস্টেম কাকে বলে?
৭. বেনডিক্স টাইপ ক্র্যাংকিং -মোটর কোন ধরনের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।
৮. সলিনয়েড টাইপ ক্র্যাংকিং- মোটর কোন ধরনের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
৯. স্লাইডিং আর্মেচার টাইপ ক্র্যাংকিং -মোটর কোন ধরনের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত
১০. ক্র্যাংকিং- মোটরের যান্ত্রিক ত্রুটি কীরূপ হয়ে থাকে?
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :
১. প্রাথমিক অবস্থায় ইঞ্জিন চালু করার জন্য কি পন্থা অবলম্বন করা উচিত ?
২. জ্যাংকিং মোটরের অবস্থান বিবৃত কর।
৩.বেনডিক্স বা ইনারসিয়া টাইপ ক্র্যাংকিং- মোটরের কাজ কী?
৪. সলিনয়েড টাইপ ক্র্যাংকিং -মোটরের কাজ উল্লেখ কর ।
৫. স্লাইডিং আর্মেচার টাইপ ক্র্যাংকিং -মোটরের কাজ উল্লেখ কর ।
৬. একটি বেনডিক্স টাইপ ক্র্যাংকিং- মোটরের বৈদ্যুতিক প্রবাহ বর্তনীর যন্ত্রাংশসমূহের নাম লেখ ।
৭. একটি সলিনয়েড টাইপ ক্র্যাংকিং- মোটরের বৈদ্যুতিক প্রবাহ বর্তনীর যন্ত্রাংশসমূহের নাম লেখ ।
৮. মোটর হতে যান্ত্রিক শক্তি কীভাবে পেয়ে থাকে?
৯. ক্র্যাংকিং- মোটরের ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ত্রুটিসমূহ কী কী?
১০. ক্র্যাংকিং- মোটরের যান্ত্রিক ত্রুটি কীরূপ হয়ে থাকে?
রচনামূলক প্রশ্ন :
১. ক্র্যাংকিং -মোটরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর।
২. ক্র্যাংকিং- মোটরের শ্রেণিভেদ আলোচনা কর ।
৩.ক্র্যাংকিং- মোটরের বিদ্যুৎপ্রবাহ বর্তনী অঙ্কন করে বিভিন্ন অংশসমূহ চিহ্নিত কর।
৪. ক্র্যাংকিং- মোটরের কার্যপ্রণালি আলোচনা কর।
৫. ক্র্যাংকিং- মোটরের বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্তকরণ পদ্ধতি আলোকপাত কর।
