তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির জন্য মোটরযানের বীমা, মোটরযানসমূহ রেজিস্ট্রিকরণ, মোটরযানের ব্যাপারে “সংযোজক” বা “এসেমরার” অর্থ প্রস্তুতকারক বা নির্মাণকারকের কর্তৃত্বসম্পন্ন এমন প্রতিষ্ঠান যেখানে মোটরযানের বিভিন্ন অংশ সংযোজিত হয় এবং যেখানে প্রস্তুতকারক বা নির্মাণকারকের কর্তৃত্বাধীনে একটি বিশেষ ধরনের চেসিস উৎপাদন করা হয়, চেসিসের সহিত বডি সংযুক্ত করা হউক বা না হউক, এবং উক্ত প্রতিষ্ঠান সেই প্রস্তুতকারক বা নির্মাণকারকের অনুকূলে অন্য কোন কার্য সম্পাদন করুক বা না করুক।
নবম অধ্যায়
তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির জন্য মোটরযানের বীমা | মোটরযান আইন

ধারা–১০৮। সংজ্ঞা:
এই অধ্যায়ে-
(ক) অনুমোদিত বীমাকারী বলিতে সেই বীমাকারীকে বুঝায়, যাহার ক্ষেত্রে ১৯৩৮ সালের বীমা আইন (১৯৩৮–এর ৪)-এর শর্তগুলি পালিত হইয়াছে এবং তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির জন্য মোটরযান বীমার কাজ সরকারকে করিতে হইলে সেইক্ষেত্রে সরকারও ইহার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হইবেন; এবং
(খ) বীমা সার্টিফিকেট বলিতে বুঝায় সেই সার্টিফিকেটকে যাহা একজন অনুমোদিত বীমাকারী ১১০ ধারার (২) উপধারার আলোকে ইস্যু করিবেন এবং তাহার মধ্যে নির্ধারিত চাহিদামাফিক একটি কভার নোট, এবং যে সকল ক্ষেত্রে একটি পলিসির জন্য একাধিক সার্টিফিকেট দেওয়া হয় সেইক্ষেত্রে সেই সকল সার্টিফিকেট বা কপি, যাহা প্রযোজ্য;
(গ) সম্পত্তি বলিতে বুঝায়, সেতু, কালভাট, কজ–ওয়ে, গাছপালা, থাম ও মাইল ফলক;
(ঘ) ‘তৃতীয় পক্ষ‘-এর মধ্যে সরকারও অন্তর্ভুক্ত।
ধারা–১০৯। তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির জন্য বীমার প্রয়োজনীয়তা:
(১) যাত্রী না হইলে কোন ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে কোন মোটরযান ব্যবহার করিবেন না বা ব্যবহারে পাঠাইবেন না বা অন্য কাহাকেও তাহা ব্যবহার করিতে দিবেন না, যদি সেই ব্যক্তি বা সেই অন্য ব্যক্তি কর্তৃক যাহার ক্ষেত্রে. প্রযোজ্য, সেখানে মোটরযান ব্যবহারের জন্য এই অধ্যায়ে বর্ণিত শর্ত পূরণকারী বীমার কোন নীতি প্রচলিত না থাকে।
ব্যাখ্যা: (১) শুধুমাত্র বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসাবে কোন মোটরযান চালনাকারী, যদি এই উপধারায় বর্ণিত শর্তানুযায়ী যান ব্যবহার সম্পর্কিত তেমন কোন নীতি চালু না থাকে, তাহা হইলে উপধারা লংঘন করিয়াছেন বলিয়া ধরা হইবে না, যদি না তাহার জানা থাকে বা তাহার বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, তেমন কোন নীতি প্রচলিত নাই।
(২) কোন বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোটরযান ব্যতীত, সরকারের মালিকানাধীন বা সরকারের পক্ষ হইতে ব্যবহৃত ‘কোন যান— (১) উপধারার আওতায় আসিবে না:
তবে এই শর্ত যে, এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট নিয়মমাফিক সরকারকে তাহাদের কোন যান বা তাহাদের কোন কর্মচারী কর্তৃক কোন তৃতীয় পক্ষের জন্য সঠিক ক্ষতির কারণে দেয় অর্থ পরিশোধের নিমিত্ত বা তৃতীয় পক্ষে সম্পত্তির বা কোন অজ্ঞাত পরিচয় মোটরযান কর্তৃক কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা দৈহিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণের জন্য একটি তহবিল গঠন ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৩) সরকার নির্দেশ জারির মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত যেকোন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন যেকোন মোটরযানকে (১) উপধারার আওতার বাহিরে রাখিতে পারিবেন ঃ
(ক) সরকার, যদি সংশ্লিষ্ট যানটি কোন বাণিজ্যিক সংস্থার সাথে জড়িত নহে এমন কাজে ব্যবহৃত হয়;
(খ) যে কোন স্থানীয় কৰ্তৃপক্ষ;
(গ) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা ;
শর্ত থাকে যে, উল্লেখিত কোন কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে এই ধরনের কোন আদেশ জারি করা যাইবে না, যদি না সেই কর্তৃপক্ষ এই আইনের বিধান অনুযায়ী সেই কর্তৃপক্ষ বা তাহাদের কোন কর্মচারী কর্তৃক কোন তৃতীয় পক্ষের উপর কোন যানের ব্যবহারজনিত দায় পরিশোধের জন্য একটি তহবিল গঠন ও সংরক্ষণ করেন।
ধারা-১১০। পলিসির শর্ত ও দায়ের সীমা:
(১) এই আইনের শর্ত পূরণের জন্য কোন বীমা পলিসিকে এমন পলিসি হইতে হইবে; যাহা-
(ক) এমন একজন ব্যক্তি কর্তৃক ইস্যু হইবে যিনি একজন অনুমোদিত বীমাকারী বা ১২৫ ধারার আওতায় বীমাকারীর দায়িত্ব সম্পাদনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সমবায় সমিতি; এবং
(খ) পলিসিতে বর্ণিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টিকে সময়ে সময়ে নির্ধারিত মাত্রায় বীমাভুক্ত করিবে—
(১) এমন সকল দায়-এর বিরুদ্ধে যাহা কোন প্রকাশ্য স্থানে তাহার যান ব্যবহারজনিত কারণে কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা দৈহিক জখম বা কোন তৃতীয় পক্ষের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের দরুন পরিশোধের প্রয়োজন হইবে;
(২) কোন প্রকাশ্য স্থানে যান চালনার দরুন বা তাহার ফলশ্রুতিতে কোন জনসাধারণের, চলাচলের যানবাহনের কোন যাত্রীদের মৃত্যু বা দৈহিকজনিত দায়-এর বিরুদ্ধে ঃ
শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোন পলিসির আওতায় বাধ্যতামূলকভাবে আসিবে না।
(১) পলিসির মাধ্যমে বীমার ছত্রচ্ছায়াধীন কোন ব্যক্তির নিয়োগকৃত কোন কর্মচারীর চাকুরীকালে সেই চাকরির কারণে মৃত্যু ঘটিলে বা চাকুরীকালে সেই চাকুরীর কারণে তাহার দৈহিক জখম হইলে যাহা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ আইন, ১৯২৩ (১৯২৩-এর ৮)-এর আওতায় নিম্নবর্ণিত কর্মচারীদের মৃত্যু বা দৈহিক জখমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাহাদের দায়;
(ক) যান চালনায় নিয়োজিত কর্মচারী, অথবা
(খ) যানটি যদি জন সাধারণের চলাচলের বাহন হয় তাহা হইলে উহার কন্ডাক্টর কিংবা টিকিট পরীক্ষাকারী হিসাবে নিয়োজিত কর্মচারী, অথবা
(গ) সেইটি যদি মালবাহী যান হয় তবে যেই যানে বাহিত কর্মচারী, অথবা
(২) কেবলমাত্র সেই সকল যান ব্যতীত, যেইগুলিতে ভাড়ার বা পুরস্কারের বিনিময়ে বা, কোন চাকরি চুক্তির কারণে বা ফলশ্রুতিতে যাত্রী বহন করা হয় সেইগুলি ব্যতীত অন্য কোন যানবাহনের ভিতরে কিংবা উপরে বাহিত, কিংবা প্রবেশ বা আরোহণ বা অবতরণকালে দায় সৃষ্টি হয় এমন কোন ঘটনা ঘটিবার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা দৈহিক জখমের দায়; অথবা
(৩) কোন চুক্তিভিত্তিক দায় ।
ব্যাখ্যা: (১) সন্দেহ নিরসনের প্রয়োজনে এতদ্বারা ঘোষণা করা যাইতেছে যে, কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা দৈহিক জখম কিংবা তৃতীয় পক্ষের সম্পত্তির ক্ষতি কোন প্রকাশ্য স্থানে যানবাহন ব্যবহারের দরুন সাধিত হইয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে, যে ব্যক্তির মৃত্যু বা জখম হইয়াছে কিংবা যে সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হইয়াছে, দুর্ঘটনার সময় তাহা প্রকাশ্য স্থানে ছিল কি-না তাহা এইক্ষেত্রে বিবেচ্য বলিয়া গৃহীত হইবে না—যদি দুর্ঘটনা সৃষ্টিকারী কাজ বা ত্রুটি প্রকাশ্য স্থানে সংঘটিত হইয়া থাকে ।
(২) যাহার দ্বারা পলিসি কার্যকর হইবে, তাহার অনুকূলে বীমাকারী নির্ধারিত ফরমে একটি বীমা সার্টিফিকেট ইস্যু না করা পর্যন্ত এই আইন মোতাবেক কোন পলিসি দ্বারা কোন ফলোদয় হইবে না; এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ফরম, বিবরণাদি ও বিষয়াদি নির্ধারিত থাকিতে পারে ।
(৩) এই আইন কিংবা এতদসংশ্লিষ্ট বিধিসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী বীমাকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত কভার—নোট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন বীমা পলিসির দ্বারা অনুসৃত না হইলে বীমাকারী কভার নোটের বৈধতার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার সাত দিনের মধ্যে বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট মোটরযান রেজিস্ট্রেশনকারী কর্তৃপক্ষকে কিংবা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অনুরূপ অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন।
(৪) যেকোন আইনে যাহাই উল্লিখিত থাকুক না কেন, এই ধারামতে বীমা পলিসি ইস্যুকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পলিসির আওতাভুক্ত ক্ষতি হইতে পলিসিতে বর্ণিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মুক্ত করিবেন।
ধারা–১১১। দায়–দায়িত্ব এড়ান যাইবে না:
(১) এই আইনে কিংবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে যাহাই উল্লিখিত থাকুক না কেন, কোন মোটর দুর্ঘটনার কারণে উক্ত দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তির মৃত্যু, স্থায়ী পঙ্গুত্ব, কোন অঙ্গহানি কিংবা অন্য কোনরূপ শারীরিক জখম হইলে, অবস্থা অনুযায়ী তিনি (দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তি) অথবা তাঁহার উত্তরাধিকারী বীমাকারী, কিংবা বৈধ বীমা পলিসির অনুপস্থিতিতে, দুর্ঘটনা কবলিত মোটরগাড়ির মালিকের নিকট হইতে ১১০ ধারার (১) উপধারার, (খ) অনুচ্ছেদের বর্ণনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাইবার যোগ্য বিবেচিত হইবেন ।
(২) দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তি কিংবা তাহার উত্তরাধিকারী অনুরূপ দাবি পেশ করিবার ৩০ দিনের মধ্যে বীমাকারী অথবা সংশ্লিষ্ট মোটরগাড়ির মালিক (১) উপধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ করিতে ব্যর্থ হইলে উক্ত ক্ষতিপূরণ ‘পাবলিক ডিমাণ্ড‘-এর আকারে আদায় করা যাইতে পারে।
ধারা–১১২। তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির প্রেক্ষিতে বীমাকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত:
বীমাকারী কর্তব্য—
(১) যাহার দ্বারা পলিসি কার্যকর করা হইয়াছে সেই ব্যক্তির অনুকূলে ১১০ ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী বীমা সার্টিফিকেট ইস্যু করিবার পর পলিসির শর্ত অনুযায়ী ১১০ ধারার (১) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত পলিসির েেত্র বীমাকৃত ব্যক্তির দায়-সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে, বীমাকারী সংশ্লিষ্ট পলিসি এড়ান বা বাতিল করিবার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এই ধারার ব্যবস্থাসাপেক্ষে ডিক্রি প্রাপ্ত ব্যক্তিকে উক্ত পরিমাণ অর্থ প্রদান করিবেন যাহা অঙ্গীকারবদ্ধ অর্থের বেশি হইবে না—যেন তিনি দায়ের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত-খাতক (Judgement debtor) উক্ত অর্থ প্রদান করিতেছেন।
(২) কোন বীমাকারীকে কোন রায়ের প্রেক্ষিতে (১) উপধারা অনুযায়ী কোন অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে না যদি আদালতে মামলা আরম্ভ হইবার পূর্বে বা পরে বীমাকারীকে আদালতের মাধ্যমে এই মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত করান না হয়, কিংবা আপীলের অপেক্ষায় কোন রায় কার্যকর স্থগিত থাকিলে উহা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত; এবং অনুরূপ মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত অনুরূপ বীমাকারী মামলার একটি পক্ষ বলিয়া গণ্য হইবেন এবং নিম্নবর্ণিত যেকোন কারণে তাহার কাজকে সমর্থন করিবেন:
(ক) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পলিসিতে উল্লিখিত ব্যবস্থানুযায়ী পলিসিটি দুর্ঘটনা ঘটিবার পূর্বেই বাতিল করা হইয়াছে যাহার দরুণ দায়-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাইয়াছে, এবং বীমা সার্টিফিকেট বীমাকারীর নিকট সমর্পণ করিবার কারণে, কিংবা যে ব্যক্তির প্রতি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হইয়াছে সে যদি এফিডেভিটের মাধ্যমে জানায় যে, সার্টিফিকেটখানা হারাইয়া অথবা পুড়িয়া গিয়াছে, কিংবা দুর্ঘটনা ঘটিবার ১৪ দিনের মধ্যে বীমাকারী ১২২ ধারার বিধান মানিয়া সার্টিফিকেট বাতিল করিবার জন্য মামলা দায়ের করে; অথবা
(খ) নিম্নলিখিত যেকোন কার্যকরণের দরুন পলিসিতে বর্ণিত কোন একটি শর্ত ভঙ্গ হইলে; যথা:
(i) (ক) সংশ্লিষ্ট মোটরযান ভাড়া কিংবা পুরস্কারের ভিত্তিতে ব্যবহৃত না হইলে, যেখানে যানটি বীমা চুক্তির দিন ভাড়া বা চুক্তির ভিত্তিতে চলাচলের পারমিট দ্বারা উহার আওতায় ছিল না।
(খ) সংঘটিত দৌড়বাজী (racing) কিংবা গতি পরীক্ষা; অথবা
(গ) পরিবহনযানের ক্ষেত্রে, যে উদ্দেশ্যে পারমিট দেওয়া হইয়াছে, সেই অনুযায়ী ব্যবহৃত না হইলে: অথবা
(ঘ) মোটরযানটি যদি মোটর সাইকেল হয় তবে উহাতে ‘সাইড-কার’ সংযুক্ত না থাকিলে; অথবা
(ii) বৈধ লাইসেন্স ব্যতীত কেহ গাড়ি চালাইলে, কিংবা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গাড়ির লাইসেন্স পাইবার বা রাখিবার অযোগ্য হইলে সেই সময়ে কোন ব্যক্তি গাড়ি চালাইলে; অথবা
(iii) যুদ্ধ, দাঙ্গা বা গণ–আন্দোলনের কারণে জখম হইলে; কিংবা
(চ) সত্য বিষয়াদি প্রকাশ না করিয়া, কিংবা কতিপয় বিবরণ প্রদানকালে
মিথ্যার আশ্রয় লইয়া কোন পলিসি গ্রহণ কারণে যদি উক্ত পলিসি বাতিল হয়।
(৩) যাহার মাধ্যমে পলিসি কার্যকর হইয়াছে তাহাকে ১১০ ধারার (২) উপধারামতে বী-মা সার্টিফিকেট ইস্যু করা হইলে, সেইক্ষেত্রে (২) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদ ব্যতীত অন্য কোন শর্তসাপেক্ষে বী-মাকৃত ব্যক্তিদের বী-মার ব্যাপারে কড়াকড়ি থাকিলে, ১১০ ধারার (১) উপধারা (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আওতার দায় কার্যকর হইবে না :
তবে শর্ত এই যে, বী-মাকারী কেবলমাত্র এই উপধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পলিসির দায় পরিশোধে অর্থ প্রদান করিলে তিনি উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে উহা ফেরত পাইতে পারিবেন ।
(৪) কোন বী-মাকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারা অনুযায়ী বী-মাকারীদের পরিশোধিত দায়–এর পরিমাণ যদি এই ধারার বাহিরে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী দায়–এর চেয়ে বেশি হয়, তবে তিনি অতিরিক্ত অর্থ বী-মাকৃত ব্যক্তির নিকট হইতে ফেরত পাইবেন ।
ধারা–১১৩। বী-মাকৃত ব্যক্তির আর্থিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে বীমাকারীর বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের অধিকার:
(১) এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী কোন বী-মাচুক্তি সম্পাদনকালে যদি কোন ব্যক্তি দেনার অধীনে বী-মাকৃত হন, যাহা (দেনা) তৃতীয় পক্ষসমূহের সহিত জড়িত রহিয়াছে—
(ক) সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার ঋণদাতাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আপোসরফা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন; কিংবা
(খ) বী-মাকৃত ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তবে উহা রহিত করিবার আদেশ দেওয়া হইলে কিংবা স্বেচ্ছাভিত্তিতে রহিত করিবার প্রস্তাব গৃহীত হইলে, কিংবা যথাযথভাবে উহার কাজ–কর্ম বা আত্তার টেকিং দেখা–শোনার জন্য কোন ‘রিসিভার‘ বা ম্যানেজার নিযুক্ত হইলে, কিংবা যদি ঋণপত্রধারীদের পক্ষ হইতে উহার অধিকার গ্রহণ করা হয় তবে ঘটনার পূর্বে বা পরে বীমাকৃত ব্যক্তির অনুরূপ দায়ের জন্য বীমাকারীর বিরুদ্ধে দায়ের চুক্তির ক্ষেত্রে তাহার অধিকার, কোন আইনানুগ ব্যবস্থার বিপরীত যাহাই উল্লিখিত থাকুক না কেন, তৃতীয় পক্ষের উপর হস্তান্তরিত ও অর্পিত হইবে যাহার (তৃতীয় পক্ষ) সহিত দায় জড়িত আছে ।
(২) দেউলিয়া আইন অনুসারে মৃত-খাতকের সম্পত্তি পরিচালনার জন্য আদেশ জারি করা হইলে, সেইক্ষেত্রে যদি থাকে, এই অধ্যায়ের ব্যবস্থা মোতাবেক তৃতীয় পক্ষের নিকটে যে অর্থ দায়বদ্ধ রহিয়াছে, সেই প্রেক্ষিতে যদি উক্ত ব্যক্তি কোন বী-মাচুক্তি অনুযায়ী বী-মাকৃত হন, তবে যেকোন আইনে বিপরীত যাহাই উল্লিখিত থাকুক না কেন, উক্ত দায়ের ক্ষেত্রে বীমাকারীর বিরুদ্ধে মৃত-খাতকের অধিকার, নিকটে তিনি ঋণী, তাহার উপর হস্তান্তরিত ও অর্পিত হইবে ।
(৩) বীমাকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে (১) উপধারার (ক) অনুচ্ছেদ অথবা (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোন ঘটনা ঘটিবার প্রেক্ষিতে এইজন্য কিংবা দেউলিয়া আইন অনুযায়ী মৃত-খাতকের সম্পত্তি পরিচালনার জন্য আদেশ জারির প্রেক্ষিতে পলিসি এড়ান কিংবা তৎসংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের অধিকার পরিবর্তনের নিমিত্ত উক্ত পলিসির ক্ষেত্রে কোন শর্ত আরোপ করা হইলে তাহা কার্যকর হইবে না ।
(৪) (১) উপধারা কিংবা (২) উপধারার অধীনে হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে বীমাকৃত ব্যক্তির প্রতি বীমাকারীর যে দায়-দায়িত্ব বর্তাইত, সেই একই দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতি বর্তাইবে, তবে—
(ক) বীমাকৃত ব্যক্তির প্রতি বীমাকারীর দায়-দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতি বীমাকৃত ব্যক্তির দায়-দায়িত্বকে ছাড়াইয়া যায়, তাহা হইলে এই অতিরিক্ত দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে বীমাকারীর বিরুদ্ধে বীমাকৃত ব্যক্তির অধিকারসমূহ এই অধ্যায়ের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে না।
(খ) যদি বীমাকৃত ব্যক্তির প্রতি বীমাকারীর দায়-দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতি বীমাকৃত ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের চেয়ে কম হয়, তাহা হইলে উক্ত তারতম্যের ক্ষেত্রে বীমাকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের অধিকারসমূহ এই অধ্যায়ের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে না ।
ধারা-১১৪। বীমা-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে কর্তব্য:
(১) ১১০ ধারার (১) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে দাবি উত্থাপনকারী ব্যক্তি বা তাহার পক্ষ হইতে কেহ যদি জানিতে চায় যে, এই অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী ইস্যুকৃত কোন পলিসিতে উক্ত দায়-দায়িত্বের দরুন যাহার বিরুদ্ধে দাবি পেশ করা হইয়াছে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন কি-না, কিংবা বীমাকারী পলিসিটি এড়াইয়া গেলে বা বাতিল করিলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হইতেন কিনা সেই ব্যাপারে তথ্য প্রদান করিতে কিংবা বীমা সার্টিফিকেটে ইস্যুকৃত এতদসংক্রান্ত বিবরণাদির প্রশ্নে তথ্য প্রদান করিতে তিনি অস্বীকৃতি জানাইবেন না ।
(২) কোন ব্যক্তি দেউলিয়া হইয়া গেলে, কিংবা ঋণদাতার সঙ্গে তিনি আপোসরফা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে, কিংবা দেউলিয়া আইন অনুযায়ী কোন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনার জন্য আদেশ দেওয়া হইলে, কিংবা কোন কোম্পানি গুটাইয়া ফেলিবার নির্দেশ দেওয়া হইলে, কিংবা স্বেচ্ছাভিত্তিতে গুটাইয়া ফেলিবার প্রস্তাব গৃহীত হইলে, কিংবা কোম্পানির কাজকর্ম ও ‘আন্ডার টেকিং’ দেখাশুনার জন্য বৈধভাবে ম্যানেজার বা রিসিভার নিযুক্ত করা হইলে, কিংবা কোন সম্পত্তির মূল্যের বিনিময়ে ঋণপত্রধারী বা তাহার পক্ষ হইতে উহার অধিকার ভোগ করা হইলে, সেই অবস্থায় যদি কেহ দাবি করে যে ঋণগ্রস্ত খাতক, মৃত-খাতক অথবা কোম্পানি এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী তাহার নিকট এমনভাবে দেনাগ্রস্ত যাহার দরুন ১১৩ ধারা মোতাবেক তাহার নিকট কোন অধিকার হস্তান্তরিত ও অর্পিত হইয়াছে কিনা তাহা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এবং যদি থাকে অনুরূপ অধিকারসমূহ কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে এবং উপরোল্লিখিত বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তি এড়ান কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের অধিকার পরিবর্তনের নিমিত্ত উক্ত ব্যক্তির অনুরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা ঋণগ্রস্ত খাতক, অবস্থা অনুযায়ী মৃত-খাতক বা কোম্পানির ব্যক্তিগত প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল প্রতিনিধি বা রিসিভার, ট্রাস্টী, লিকুইডেটর, ম্যানেজার কিংবা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ভোগ-দখলকারীর কর্তব্য হইয়া দাঁড়ায় অন্যথায় অনুরূপ যেকোন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান নিষিদ্ধকরণ বা বাধাদানে কোন ফলোদয় হইবে না ।
(৩) কোন ব্যক্তিকে (২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত অথবা অন্য কোন তথ্য প্রদানের প্রেক্ষিতে যদি তাহার মনে করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, কোন নির্দিষ্ট বীমাকারীর বিরুদ্ধে এই অধ্যায়ে বর্ণিত অধিকারসমূহ তাহার নিকট হস্তান্তরিত হইয়াছে বা হইতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি উক্ত ৰীমাকারীর কর্তব্য উক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত কর্তব্যের অনুরূপ হইবে।
(৪) এই ধারা অনুযায়ী তথ্য প্রদানের কর্তব্যের মধ্যে যাহার উপর কর্তব্য আরোপিত হইয়াছে, তাহার নিকট রক্ষিত বা তাহার কর্তৃত্বাধীন বীমা চুক্তি, প্রিময়াম–রসিদ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাগজ–পত্র প্রদর্শন ও সেইগুলির কপি প্রদানের কর্তব্যও অন্তর্ভুক্ত।

ধারা–১১৫। বীমাকারী ও বীমাকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে নিষ্পত্তি ঃ
(১) ১১ ধারার (১) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোন দায় সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষের পেশকৃত কোন দাবি প্রসঙ্গে বীমাকারীর কৃত নিষ্পত্তি বৈধ হইবে না যতক্ষণ না এই ধরনের তৃতীয় পক্ষ নিষ্পত্তিতে একটি পক্ষ হইবে।
(২) যখন এই অধ্যায়ের লক্ষ্যে ইস্যুকৃত একটি পলিসির অধীনে কোন ব্যক্তির বীমা করা হয় এবং তিনি দেউলিয়া হইয়া পড়েন অথবা যদি এই ধরনের বীমাকৃত ব্যক্তি কোন কোম্পানি হয় এবং এই কোম্পানি গুটাইয়া ফেলিবার আদেশ দেওয়া হইয়া থাকে, তৃতীয় পক্ষের দেনাযুক্ত হইবার পর এবং দেউলিয়াত্ব আরম্ভ অথবা গুটাইয়া ফেলিবার পর, যেক্ষেত্রে যেটা খাটে, বীমাকারী ও বীমাকৃত ব্যক্তির মধ্যে কোন চুক্তি সম্পাদিত হইবে না অথবা কোন প্রকার স্বত্ত্ব ত্যাগ, সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা উল্লিখিত অবস্থা সৃষ্টি হইবার প্রেক্ষিতে বীমাকৃত ব্যক্তিকে অর্থ পরিশোধে এই অধ্যায়ে বর্ণিত তৃতীয় পক্ষের নিকট হস্তান্তরিত অধিকার বাতিল হইবে, তবে উক্ত ধরনের কোন চুক্তি, স্বত্ত্ব ত্যাগ, হস্তান্তর বা অর্থ প্রদান না করা হইলে এই সকল অধিকার একই রকম থাকিবে।
ধারা–১১৬। ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ ধারার সংরক্ষণ:
(১) ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ ধারার উদ্দেশ্যে কোন বীমা পলিসির অধীনে বীমাকৃত ব্যক্তির প্রেক্ষিতে তৃতীয় পক্ষের ঋণ প্রসঙ্গে অন্যান্য বীমা পলিসির অধীনে বীমাকারী হিসাবে উক্ত ব্যক্তির ঋণের প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(২) ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ ধারার শর্তাবলী যেখানে একটি কোম্পানি স্বেচ্ছাকৃতভাবে পুনর্গঠনের কিংবা অন্য কোম্পানির সঙ্গে অঙ্গীভূত হইবার লক্ষ্যে গুটাইয়া ফেলা হইতেছে, সেইখানে প্রযোজ্য হইবে না ।
ধারা–১১৭। বীমাকৃত ব্যক্তির দেউলিয়াত্ব বীমাকৃত ব্যক্তির দেনা কিংবা তৃতীয় পক্ষের দাবিকে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না:
যে ব্যক্তির নামে বীমার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হইয়াছে এবং যৎকর্তৃক পলিসি কার্যকর হইয়াছে, ১১৩ ধারার (১) উপধারা অথবা (২) উপধারায় উল্লিখিত কোন ঘটনায় পলিসির অধীনে কাহারও বীমা করা প্রসঙ্গে ১১০ ধারার (১) উপধারার (খ) বর্ণিত দেনা সম্পর্কে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করিবে না ।
তবে, ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ ধারা অনুযায়ী বীমাকারী অধিকারের প্রেক্ষিতে যাহার দেনা হইয়াছে, তাহার সম্পর্কে তাহার উপর এই ধারা কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিবে না ।
ধারা–১১৮। কতিপয় কারণে মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া:
উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (১৯২৫–এর ৩৯)-এর ৩০৬ ধারায় যাহাই উল্লিখিত থাকুক না কেন, যাহার নামে বীমা সার্টিফিকেট ইস্যু করা হইয়াছে, তাহার মৃত্যু ঘটিলে, উহা যদি এমন ঘটনার ফলে সৃষ্টি, যদ্দরুন এই অধ্যায়ের শর্তাধীনে দাবি (claim) উত্থাপিত হয়, তাহা হইলে তাহার সম্পত্তি বা বীমাকারীর প্রেক্ষিতে উদ্ভূত কারণের কোন ব্যত্যয় ঘটিবে না ।
ধারা–১১৯। বীমা সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা:
বীমাকারী যখন বীমাকারী ও বীমাকৃত ব্যক্তির মধ্যে বীমাচুক্তির ব্যাপারে বীমা সার্টিফিকেট ইস্যু করে, তখন—
(ক) যদি ও যতক্ষণ পর্যন্ত বীমাকারী সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি বীমাকৃত ব্যক্তির নিকটে ইস্যু করিয়া না থাকে, তাহা হইলে বীমাকারী, বীমাকৃত ব্যক্তি ব্যতীত তাহার ও অন্য কোন ব্যক্তির মধ্যে সার্টিফিকেটে বর্ণিত বিবরণ ও খুঁটিনাটি বিষয় সমন্বিত সকল ব্যাপারে সঙ্গতি রাখিয়া বীমাকৃত ব্যক্তির নিকট বীমা পলিসি ইস্যু করিয়াছেন বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে ।
(খ) বীমাকারী যদি বীমাকৃত ব্যক্তির নিকট সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি ইস্যু করিয়া থাকেন, কিন্তু উক্ত পলিসির প্রেক্ষিতে পলিসির প্রকৃত শর্তাবলী, সরাসরি বা বীমাকৃত ব্যক্তির মাধ্যমে বীমাকারীর বিরুদ্ধে দাবি পেশকারী ব্যক্তিদের নিকটে কম অনুকূল মনে হয়, তাহা হইলে বীমাকৃত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তির ও বীমাকারীর সম্পর্কে সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেটে বর্ণিত বিশদ বিবরণের সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে সামঞ্জস্যশীল বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে।
ধারা–১২০। বীমা সার্টিফিকেট হস্তান্তর:
(১) এই অধ্যায়ের শর্ত অনুসারে কাহারও পক্ষে একটি বীমা সার্টিফিকেট ইস্যু করা হইয়া থাকিলে এবং সেই ব্যক্তি বীমা পলিসির সঙ্গে গৃহীত বীমার ক্ষেত্রে মোটরযানের মালিকানা অন্যজনের নিকট হস্তান্তর করিতে চাহিলে তিনি বীমাকারীর নিকট যাহার নিকটে মোটরযান হস্তান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হইয়াছে তাহার অনুকূলে নির্ধারিত ফরমে বীমা সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি হস্তান্তরের জন্য আবেদন করিবেন এবং এই ধরনের আবেদনপ্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বীমাকৃত ও অন্যান্য লোকদিগকে সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি হস্তান্তরের ব্যাপারে বীমাকারী অস্বীকৃতি জ্ঞাপন না করিলে উক্ত মোটরযান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকটে হস্তান্তরের তারিখ হইতে মোটরযানটি হস্তান্তরিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) বীমাকারীর নিকটে যাহার জন্য (১) ধারার অধীনে আবেদন পেশ করা হইয়াছে, নিম্নোক্ত প্রসঙ্গে তিনি অবাঞ্ছিত মনে না করিলে সংশ্লিষ্ট লোকের নিকটে বীমা সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি হস্তান্তর করিবেন ঃ
(ক) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্বেকার আচরণ—
(i) মোটরযানের চালক হিসাবে; অথবা
(ii) কোন মোটরযানের বীমা পলিসিধারী হিসাবে; অথবা
(খ) আবেদনকারীর হাতে আছে, এমন পলিসি সম্পর্কিত আরোপিত যেকোন শর্ত; অথবা
(গ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন বা অধিকারে থাকাকালে কোন মোটরযানের বীমা পলিসি ইস্যুর ব্যাপারে কোন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হইলে ।
(৩) মোটরযান যাহার নিকট হস্তান্তর করা হইয়াছে, তাহার অনুকূলে বীমাকারী বীমা সার্টিফিকেটে ও সার্টিফিকেটে বর্ণিত পলিসি হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানাইলে তিনি হস্তান্তরিত ব্যক্তিকে, এই ধরনের পলিসির মেয়াদ অনুত্তীর্ণ সময়ের জন্য বীমাকারীকে পলিসির শর্তানুসারে যে পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতেন, সেই পরিমাণ অর্থ ফেরত দিবেন।
ধারা-১২১। পলিসি বাতিল করিবার প্রেক্ষিতে সার্টিফিকেট জমা দেওয়া কর্তব্য:
(১) এই অধ্যায়ের শর্তাধীনে জারিকৃত বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হইয়া গেলে অথবা সময় শেষ হইবার পূর্বেই কোন কারণে স্থগিত করা হইলে বীমাকৃত ব্যক্তি এই ধরনের বাতিল বা স্থগিতের সাতদিনের মধ্যে পলিসি ইস্যুকারী বীমাকারীর নিকট এই পলিসি-সংক্রান্ত তৎকর্তৃক প্রদত্ত সর্বশেষ বীমা সার্টিফিকেটে জমা দিতে হইবে। অথবা উক্ত সার্টিফিকেট যদি হারাইয়া যায় বা ষ্ট হয়, তাহা হইলে সেই মর্মে একটি এফিডেভিট করিতে হইবে
(২) এই ধারা অনুযায়ী যদি কেহ বীমার সার্টিফিকেট জমা দিতে ব্যর্থ হয়, অথবা এফিডেভিট না করে তাহা হইবে এই অপরাধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত প্রতি দিন ৩০ টাকা হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হইতে পারে।
ধারা-১২২। পলিসি বাতিল বা সাময়িকভাবে স্থগিত করিবার ব্যাপারে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো বীমাকারীর কর্তব্য ঃ
এই অধ্যায়ের শর্তাধীনে জারিকৃত বীমা পলিসি বীমাকারী যিনি এই পলিসি ইস্যু করিয়াছিলেন তৎকর্তৃক বাতিল অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হইলে বীমাকারী সাত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃক যাহাদের নিকটে বীমাকৃত যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে তাহাদের কাছে নির্দেশ অনুসারে অনুরূপ কর্তৃপক্ষের নিকট জানাইবেন ।
ধারা-১২৩। বীমা সার্টিফিকেট প্রদর্শন:
(১) যেকোন প্রকাশ্য স্থানে মোটরযান চালনাকারী কোন ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত সাব-ইন্সপেক্টরের পদমর্যাদার নিচে নহে এমন ইউনিফরম পরিহিত পুলিশ অফিসার অথবা মোটরযানের কোন পরিদর্শক অথবা কর্তৃপক্ষ হইতে অনুমোদিত অপর কোন ব্যক্তিবর্গ চাহিবামাত্র যান ব্যবহার-সংক্রান্ত বীমার সার্টিফিকেট দেখাইতে হইবে ।
(২) যদি প্রকাশ্য স্থানে কোন মোটরযানের উপস্থিতির দরুন কোন দুর্ঘটনা ঘটে এবং অন্য কোন ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতি হয়, তাহা হইলে গাড়ির চালককে পুলিশ অফিসারের নিকট বীমা সার্টিফিকেটে দেখাইতে হইবে না। এইক্ষেত্রে তিনি ১০৪ ধারা অনুসারে থানায় বীমার সার্টিফিকেট দেখাইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি (১) উপধারা অথবা (২) উপধারা অনুসারে শুধু বীমা সার্টিফিকেট দেখাইতে ব্যর্থতার দরুন অভিযুক্ত হইবে না যদি (১) উপধারার অধীনে নির্দিষ্ট তারিখ হইতে সাত দিনের মধ্যে তাহা দেখান জরুরী হইয়া পড়ে অথবা ঘটনা অনুসারে দুর্ঘটনা সংঘটিত হইবার তারিখ হইতে তাহার নির্দিষ্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার অথবা অন্য কর্তৃপক্ষ যাহাদের উহা দেখান প্রয়োজন ছিল সেই মোতাবেক সেই থানায় সেই সার্টিফিকেট তিনি দেখাইবেন অথবা দুর্ঘটনা স্থলে পুলিশ অফিসারকে অথবা যে থানার ওসির নিকটে তিনি দুর্ঘটনার রিপোর্ট করিয়াছিলেন—এইক্ষেত্রে যেটা খাটে :
শর্ত হইল যে, যতটুকু প্রয়োজন ও যতটুকু সংশোধনী দেওয়া হউক তাহা ব্যতীত এই উপধারার শর্তাবলী কোন পরিবহনযানের চালকের প্রতি প্রযোজ্য নহে।
(৪) কোন মোটরযানের মালিক তাহার গাড়িটি ১০৯ ধারা লংঘন করিয়া চালান হইয়াছিল অথবা হয় নাই তাহা নির্ধারণের লক্ষ্যে এবং অন্য সময় চালককে যখন এই ধারার অধীনে বীমা সার্টিফিকেট দেখাইতে হইবে তখন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া কোন পুলিশ অফিসারের পক্ষে অথবা তাহার প্রয়োজনে তথ্য প্রদান করিবেন।
(৫) এই ধারায় বীমার সার্টিফিকেট প্রদর্শনের অর্থ হইল পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বীমা সার্টিফিকেটের প্রদর্শন অথবা এমন সকল প্রমাণপত্র প্রদর্শন যাহাতে লিখা রহিয়াছে যে, মোটরযানটি ১০৯ ধারা লংঘন করিয়া চালনা করা হয় নাই।
ধারা–১২৪ । গাড়ি ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমতি চাহিয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে বীমা সার্টিফিকেট প্রদর্শন:
মোটর গাড়ির মালিক খাজনা পরিশোধ বা অন্য কোন উপায়ে কর্তৃপক্ষের নিকটে প্রকাশ্য স্থানে গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি চাহিয়া আবেদন করিলে কর্তৃপক্ষ তাহাতে নির্ধারিত উপায়ে প্রমাণপত্র দাখিল সংক্রান্ত প্রবিধান জারি করিতে পারিবেন এই মর্মে যে:
(ক) যে তারিখে মোটরযান ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যাইবে তখন দরখাস্তকারী বা তাহার পক্ষে অপর কোন ব্যক্তি বা অনুমতিতে মোটরযান ব্যবহার–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বীমা পলিসি কার্যকর থাকিবে; অথবা
(খ) মোটরযানটি এমন একটি গাড়ি যাহার ক্ষেত্রে ১০৯ ধারা প্রযোজ্য নহে।
ধারা–১২৫। সমবায় বীমা:
(১) সরকার রেজিস্ট্রিকৃত অথবা সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭নং আইন)-এর অধীনে রেজিস্ট্রি করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য অথবা সমবায় সমিতিসমূহের রেজিস্ট্রেশন পরিচালনা–সংক্রান্ত পার্লামেন্টের আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত যান পরিবহন মালিকদের সমবায় সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই অধ্যায়ের লক্ষ্যে বীমা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালনের অনুমতি দিতে পারিবেন। তবে এইক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পালন করিতে হইবে:
(ক) সমিতি প্রথম ৫০টি গাড়ি বা তাহার অংশবিশেষের জন্য এবং সদস্যদের প্রতিটি অতিরিক্ত গাড়ির জন্য কমপক্ষে দুই লক্ষ টাকার কম নহে এমন তহবিল প্রতিষ্ঠা ও চালু রাখিবে। ইহা সমিতির সঙ্গে বীমা করিবে এবং বিধি দ্বারা সরকার নির্ধারিত আইনের পন্থায় এই তহবিল সংরক্ষণ করা হইবে ও সমিতি ভাঙ্গিয়া দেওয়া ব্যতীত কোন দাবি (Claim) বা অন্য খরচের জন্য ব্যয় করা যাইবে না;
(খ) সমিতির বীমা ব্যবসায় (ঘ) অনুচ্ছেদের অধীনে সদস্যদের মালিকানাধীন পরিবহনযানের মধ্যে সীমিত থাকিবে এবং তার দায়–দায়িত্ব ১১০ ধারার (২) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশ সীমিত থাকিবে;
(গ) সমিতি সরকারের নির্দেশে প্রয়োজনবোধে সরকারের নির্দিষ্ট পরিমাণের চাইতে বেশি অর্থের দাবি (Claim) পূর্ণ বীমা করিতে পারিবে;
(ঘ) সমিতি সরকার অনুমতি দিলে এবং সরকার আরোপিত শর্ত ও বীমার আওতায় এই ধারার অধীনে অন্য যেই সকল সমিতি বীমা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে, তাহাদের পূর্ণ বীমা গ্রহণ করিতে পারে;
(ঙ) এই অধ্যায়ের শর্তাবলী তৃতীয় পক্ষের স্বার্থসংরক্ষণ এবং সার্টিফিকেট
জারি ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সমিতি কর্তৃক কার্যকর যেকোন বীমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে;
(চ) সমিতির দাবিসমূহ (Claims) নিষ্পত্তির জন্য সরকার সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নহে এমন একটি নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত করিবেন;
(ছ) সমিতি একটি বীমার ভিত্তিতে কাজ করিবে; অর্থাৎ–
(১) ১২ মাসের ঊর্ধ্বে নয়, এমন সময়ের জন্য ইহা প্রিমিয়াম ধার্য করিবে। এই সময়ে ১১০ ধারার (১) উপধারার (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত বীমাকৃত ব্যক্তির প্রতি দায়–দায়িত্বের সীমা অনুসারে সকল দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইবে।
(২) সমিতি সংশ্লিষ্ট মেয়াদের ঝুঁকি, সকল দাবির মূল্য যাহা মিটাইতে হইবে, সেই সকল বিবেচনাপূর্বক এবং সেই সঙ্গে পলিসি ইস্যু এবং দাবি নিষ্পত্তি–সংক্রান্ত ব্যয়ের কথা খেয়াল রাখিয়া পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রিমিয়াম ধার্য করিবে;
(জ) বীমা আইন, ১৯৩৮ (১৯৩৮–এর ৪)-এর অধীনে বীমাকারীগণকে যেই সকল রিটার্ন দাখিল করিতে হয়, সমিতিকে তাহা বীমা নিয়ন্ত্রকের নিকট দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত আইন অনুযায়ী বীমা নিয়ন্ত্রক উক্ত সকল রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা কার্যকর করিবেন;
(ঝ) ১১০ ধারার (১) উপধারার (২) অনুচ্ছেদের বর্ণনা অনুযায়ী সমিতি কোন কাজ ও লেন–দেন করিয়া থাকিলে উক্ত সমিতি বীমা আইন, ১৯৩৮ (১৯৩৮–এর ৪)-এর ১০ ধারার (১) উপধারা এবং ১৩ ধারার (৬) উপধারা অনুসারে বীমাকারী হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) বীমা কোম্পানি গুটাইয়া ফেলিবার ব্যাপারে বীমা আইন, ১৯৩৮ (১৯৩৮–এর ৪)-এর ব্যবস্থা, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, বীমাকারী হিসাবে নিয়োজিত ও উক্ত কাজের জন্য অনুমোদিত কোন সমবায় সমিতি গুটাইয়া ফেলিবার ব্যাপারে প্রযোজ্য হইবে।
ধারা–১২৬। দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরযানের বিশদ বিবরণ পেশ ঃ
একটি রেজিস্টারিং কর্তৃপক্ষ অথবা কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোন ব্যক্তির প্রয়োজন হইলে এবং তিনি যদি অভিযোগ করেন যে, মোটরযান ব্যবহারের ফলে সংঘটিত দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ক্ষতিপূরণ পাইবার অধিকারী, অথবা কোন বীমাকারীর বিরুদ্ধে কোন মোটরযান–সংক্রান্ত দাবি উত্থাপিত হইলে, অবস্থা অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তি বা বীমাকারীকে নির্ধারিত ফী–র বিনিময়ে মোটরযানের বিশেষ চিহ্ন ও অন্যান্য বিবরণ এবং দুর্ঘটনার সময় মোটরযান ব্যবহারকারী ব্যক্তি অথবা যৎ–কর্তৃক আহত হইয়াছে তাহার নাম ও ঠিকানা–সংক্রান্ত তথ্যাদি পেশ করিবেন।
ধারা–১২৭। ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল:
এলাকার কর্তৃত্বশীল জেলা–জজ মোটরযান ব্যবহারের ফলে ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতি, মৃত্যু অথবা শারীরিকভাবে আহত হওয়া–সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ দাবির নিষ্পত্তির ব্যাপারে রায়দানের উদ্দেশ্যে উক্ত এলাকায় মোটরযান দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ ট্রাইব্যুনাল (এখন হইতে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল বলিয়া উল্লিখিত হইবে) গঠন করিবেন ।
এইক্ষেত্রে যেই সকল জেলায় জেলা–জজ নাই, সেখানে সরকার জেলা জজ ছিলেন বা এখনও আছেন, এমন ব্যক্তিকে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল নিযুক্ত করিবেন ।
ধারা–১২৮। ক্ষতি পূরণের দরখাস্ত:
(১) নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা ১২৭ ধারার নির্দেশিত প্রকৃতির দুর্ঘটনার ফলে উদ্ভূত ক্ষতিপূরণের জন্য দরখাস্ত পেশ করিতে পারিবেন:
(ক) যিনি নিজে আহত হইয়াছেন, অথবা যাহার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে তিনি; অথবা
(খ) দুর্ঘটনার ফলে কোন ব্যক্তি মারা গেলে তাহার আইনানুগ উত্তরাধিকারীদের সকলে কিংবা তাহাদের মধ্যে যেকোন একজন; অথবা
(গ) আহত ব্যক্তি কর্তৃক কিংবা মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের সকলে বা যেকোন একজন কর্তৃক অনুমোদিত এজেন্ট:
শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দরখাস্তে, মৃত ব্যক্তির সকল আইনানুগ উত্তরাধিকারী অংশ গ্রহণ করে নাই, সেইক্ষেত্রে যাহারা অংশ গ্রহণ করে নাই, তাহাদের পক্ষ হইতেও তাহাদের স্বার্থে দরখাস্ত করিতে হইবে।
(২) যেইস্থানে দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে সেখানকার ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের নিকটে (১) উপধারা অনুসারে প্রতিটি দরখাস্ত পেশ করিতে হইবে এবং দরখাস্তে নির্ধারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে।
(৩) কোন দুর্ঘটনা ঘটিবার ৬ মাসের মধ্যে এই ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, অন্যথায় উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না ।
তবে শর্ত এই যে, ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল যদি এই ব্যাপারে সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনকারী যথাসময়ে দরখাস্ত পেশ না করিবার পর্যাপ্ত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে দুর্ঘটনার ৬ মাস অতিক্রান্ত হইবার পরও দরখাস্ত গ্রহণ করিতে পারিবেন।
ধারা–১২৯। ক্ষতিপূরণের জন্য দাবি উত্থাপন:
প্রচলিত অন্য কোন আইনে যাহাই উল্লিখিত থাকুন না কেন, কোন ব্যক্তি মারা গেলে অথবা কেহ শারীরিকভাবে আহত হইবার কারণে এই আইন কিংবা অন্য কোন আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের দাবিদার হইলে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে এই আইন কিংবা অন্য কোন আইন অনুযায়ী দাবি পেশ করিবার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
ধারা–১৩০। ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালকে যে পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে:
১২৮ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের জন্য দরখাস্ত পাইবার পর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল প্রথমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে (প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ) সংশ্লিষ্ট মোটরযানের মালিক বা মালিকগণ এবং বীমাকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যকোন পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে তাহাদের বক্তব্য পেশের সুযোগ `দিবেন । ইহার পর ক্ষতিপূরণ–সংক্রান্ত অনুসন্ধান বৈঠকের (Enquiary) ব্যবস্থা করিবেন এবং ন্যায্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারণপূর্বক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিবেন; কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করিতে হইবে এবং বীমাকারী কিংবা দুর্ঘটনা কবলিত মোটরযানের মালিক অথবা চালককে কিংবা অন্যকোন পক্ষকে, অবস্থা অনুযায়ী, তাহাদের সকলকে কিংবা যেকোন একজনকে, যে পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ করিতে হইবে–এই সকল কিছু সিদ্ধান্ত (award) উল্লিখিত থাকিতে হইবে।
ধারা-১৩১। ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতি ও ক্ষমতা ঃ
(১) ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল ১৩০ ধারা অনুযায়ী অনুসন্ধানমূলক বৈঠক (Enquary) অনুষ্ঠানকালে, এইক্ষেত্রে প্রণীত সংশ্লিষ্ট প্রবিধান সাপেক্ষে, ক্ষতিপূরণের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তৎকর্তৃক উপযুক্ত বিবেচিত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন।
(২) শপথের ভিত্তিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ, সাক্ষীর উপস্থিতি কার্যকর এবং প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র ও উপকরণ খোঁজ ও প্রদর্শনে বাধ্য করিতে এবং নির্ধারিত অন্যান্য উদ্দেশ্য সাধনে দেওয়ানী আদালতের যে সকল ক্ষমতা রহিয়াছে-ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের সে সকল ক্ষমতা থাকিবে এবং ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮-এর ৫নং অ্যাক্ট)-এর ১৯৫ ধারা এবং ৩৫ অধ্যায়ে বিধৃত উদ্দেশ্যাবলী সাধনের জন্য সিভিল কোর্ট হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) অনুসন্ধান-বৈঠক চলাকালে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করেন যে—
(ক) যে ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দাবি করিতেছে এবং যাহার নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হইয়াছে, উভয়ের মধ্যে একটি অবৈধ গোপন চুক্তি রহিয়াছে; অথবা
(খ) যাহার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করা হইয়াছে সে এই ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত মামলায় প্রতিপক্ষ হইতে ব্যর্থ হইয়াছে, তাহা হইলে বিষয়টি প্রয়োজনবোধে লিপিবদ্ধ করিয়া নির্দেশ দিবেন যে, অনুরূপ দাবির ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ বীমাকারী মামলার একটি পক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে এবং যাহার নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হইয়াছে তাহার পক্ষের যেকোন অথবা সকল কার্যকারণের প্রেক্ষিতে বীমাকারীর দাবি-সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রতিপক্ষ হইবার অধিকার থাকিবে।
(৪) এইক্ষেত্রে প্রণীত প্রবিধান সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল-অনুসন্ধান বৈঠক অনুষ্ঠানে তাহাকে (ট্রাইব্যুনালকে) সহায়তা করিবার জন্য আনুষঙ্গিক যেকোন বিষয় সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত এক বা-একাধিক ব্যক্তি ডাকিতে পারেন।
ধারা–১৩২। কতিপয় মামলায় ক্ষতিপূরণ ব্যয়ের রায়:
(১) এই আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণের দাবি নিষ্পত্তিকালে কোন ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল যদি সন্তুষ্ট হন যে (যাহা লিপিবদ্ধ থাকিবে) —
(ক) কোন মিথ্যা বিবরণ পরিবেশনের মাধ্যমে সংগৃহীত হওয়ার কারণে বীমা পলিসিটি অবৈধ; অথবা
(খ) কোন পক্ষ কিংবা বীমাকারী যদি মিথ্যা বা অকারণে দাবি পেশ কিংবা উহা প্রতিরোধ করে তবে ট্রাইব্যুনাল, যাহার বিরুদ্ধে অনুরূপ পেশ কিংবা উহা প্রতিরোধ করা হইয়াছে, অবস্থা অনুযায়ী সেই বীমাকারী কিংবা পক্ষকে ক্ষতিপূরণের আকারে বিশেষ খরচ পরিশোধের জন্য, যে অনুরূপ দাবি পেশ কিংবা উহা প্রতিরোধ করিয়াছে সেই দোষী পক্ষকে আদেশ দিবেন :
তবে শর্ত এই যে, অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ পলিসির ক্ষেত্রে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে অর্থ পরিশোধের জন্য বীমাকারীকে আদেশ দিতে পারেন ।
(১) এই ধারা অনুযায়ী যাহার বিরুদ্ধে আদেশ প্রদান করা হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা বীমাকারী,
(২) এই ধারা অনুযায়ী যাহার বিরুদ্ধে আদেশ প্রদান করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি না বীমাকারী (১) উপধারায় বর্ণিত অবৈধ প্রয়োগ, দাবি পেশ কিংবা দাবি প্রতিরোধের কারণে অপরাধের দায় হইতে রেহাই পাইবে না।
(৩) এই ধারা অনুযায়ী কোন অবৈধ প্রয়োগ, দাবি বা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ অর্থ প্রদানের জন্য যে রায় প্রদান করা হইবে, সেই পরিমাণ অর্থ পরবর্তী স্বার্থহানি–মামলায় (অনুরূপ অবৈধ প্রয়োগ দাবি পেশ বা প্রতিরোধের প্রেক্ষিতে) অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে।
ধারা–১৩৩। আপীল:
ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কারণে ক্ষুদ্ধ যেকোন ব্যক্তি সিদ্ধান্ত ঘোষণার তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল করিতে পারেন ।
তবে এখানে শর্ত রহিয়াছে যে, হাইকোর্ট ডিভিশনের নিকট যদি প্রতিপন্ন হয়। যে, আপীলকারীকে যথাসময়ে আপীল পেশ করিতে বাধা দেওয়া হইয়াছে, তাহা হইলে হাইকোর্ট ডিভিশন উপরোক্ত নব্বই দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আপীল গ্রহণ করিতে পারেন।
ধারা–১৩৪। রায় অনুযায়ী পাওনা অর্থ আদায়:
রায় অনুযায়ী কোন ব্যক্তির নিকট অর্থ পাওনা হইলে, পাওনাদার ব্যক্তির নিকট হইতে দরখাস্ত পাইবার পর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল উক্ত অর্থের জন্য একটি সার্টিফিকেট জারী করিবেন যাহা দেওয়ানী আদালতের একটি ডিক্রি হিসাবে বাস্তবায়িত হইবে।
ধারা–১৩৫ । দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত ঃ
কোন দেওয়ানী আদালত যেকোন এলাকার ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত ক্ষতিপূরণের দাবি–সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন বিচারার্থে গ্রহণ করিতে পারিবে না, বিষয়টি তাহার এখতিয়ার বহির্ভূত, এবং এই আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের দাবি সংক্রান্ত যেকোন ব্যবস্থা ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গৃহীত হইলে, গৃহীত হওয়ার অপেক্ষায় থাকিলে কিংবা ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হইলে সেই ব্যাপারে কোন দেওয়ানী আদালতের ইনজাংকশন (নিষেধাজ্ঞা জারি করিবার ক্ষমতা থাকিবে না ।

ধারা–১৩৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ঃ
(১) কর্তৃপক্ষ এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানসমূহ কার্যকর করিবার জন্য বিধি প্রণয়ন করিতে পারেন।
(২) পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ক্ষতিসাধন না করিয়া অনুরূপ বিধিসমূহে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ উল্লেখিত থাকিবে—
(ক) এই অধ্যায়ের জন্য ব্যবহার্য বিভিন্ন ফরম;
(খ) বীমা সার্টিফিকেটের আবেদনপত্র প্রণয়ন ও ঐসব সার্টিফিকেট প্রদান;
(গ) হারাইয়া যাওয়া, ধ্বংসপ্রাপ্ত, মলিন ও ছেঁড়া বীমা সার্টিফিকেটের পরিবর্তে অনুলিপি প্রদান;
(ঘ) বীমা সার্টিফিকেটের হেফাজত, উপস্থিত করণ, বাতিল ও অর্পণ;
(ঙ) এই অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী বীমা পলিসির কাগজপত্র যাহা বীমাকারী সংরক্ষণ করিবেন।
(চ) এই আইনের বিধান হইতে যেই সকল ব্যক্তি কিংবা মোটরযানকে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে, সার্টিফিকেটের সাহায্যে বা অন্যকোনভাবে তাহাদের সনাক্তকরণ;
(ছ) বীমাকারী কর্তৃক বীমা পলিসি–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ;
(জ) (বাতিল)
(ঝ) বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য আগমনকারী ব্যক্তিদের মোটরযানের ক্ষেত্রে নির্ধারিতভাবে সংশোধনের পর এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ প্রয়োগ ও কার্যকর;
(ঞ) ক্ষতিপূরণের দাবির জন্য আবেদনের ফরম এবং উহাতে সন্নিবেশিত বিবরণাদি, অনুরূপ আবেদনের জন্য প্রদানযোগ্য ফী, যদি উহা ধার্য থাকে;
(ট) এই আইন মোতাবেক কোন ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ইনকোয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনুসৃত প্রণালী;
(ঠ) কোন দেওয়ানী আদালতে অর্পিত ক্ষমতা–যাহা ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রযোজ্য হইতে পারে;
(ড) ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হইলে সেই আপীল পেশকালে প্রদত্ত ফী, যদি ধার্য থাকে, এবং উহার পরিমাণ ও প্রদানের পদ্ধতি; এবং
(ঢ) অন্য কোন বিষয় দ্বারা নির্ধারিত আছে বা নির্ধারিত হইতে পারে।

২ thoughts on “তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকির জন্য মোটরযানের বীমা | মোটরযান আইন”