টায়ার বিনির্দেশক তথ্যাবলি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় টায়ার বিনির্দেশক তথ্যাবলি

টায়ার বিনির্দেশক তথ্যাবলি

টায়ার বিনির্দেশক তথ্যাবলি

 

টারারের সাইজ শসাতকরণ

টারারের পরিমাপ এর পাশের দেয়ালে খোদাই/ডালাই করে দেওয়া থাকে। একটি আগেকার দিনের টারারের পারে ঢালাই করে ৭.৭৫.১৪ লেখা থাকত। যার অর্থ হলো এ জাতীর টায়ার ১৪ ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট চাকার রিমে যুক্ত হতে পারে। রিমের ব্যাস করা হয় যে স্থানে টারার বিদ্ধ অবস্থান করে। তার মধ্যবর্তী স্থানের দূরত্ব। ৭.৭৫ অ হল বাভাস যারা পরিপুর্ণ করা হলে এর প্রদক্ষতা ৭.৭৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। টায়ারের পারে এটা ছাড়াও ঢালাই করা কিছু অক্ষর থাকে।

যাদের আক্ষরিক মানও রয়েছে। যেমন ডি অক্ষর থাকলে বুঝাবে হালকা মোটরযানের জন্য এক অক্ষর থাকলে বুঝাবে বালকা মানের জন্য আবার এইচ/জে/সি এর অক্ষর থাকলে বুঝাবে মাঝারি মোটর যানের ব্যবহারের জন্য যথোপযুক্ত/সুনির্দিষ্ট। আবার জি এর নর অক্ষর থাকলে স্ট্যান্ডার্ড মানের গাড়ির জন্য বুঝায় । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোনো কোনো মোটরযানে ঢালাই করে জি ৭৮-১৪ এর ন্যায় মার্কিং থাকে।

এ ক্ষেত্রে জি স্টান্ডার্ড মানের গাড়ি বুঝায় । ১৪ কে ১৪ ইঞ্চি/৩৫৬ মি.মি. রিমের ব্যাস বোঝার আর ৭৮-কে টায়ার অক্সপেক্ট রেসিও/প্রগাইল রেসিও বুঝায়। ৮৩ ডিগ্রী, ৭৮, ৭০ ও ৬০ এর চার মানের প্রপাইল রেসিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রফাইল রেসিও এর নাম্বার যত কম হবে, টায়ারের প্রশস্ততা ততো বেশি হবে। যদি টায়ারের পারে অতিরিক্ত আর লেখা থাকে তখন তাকে রেডিয়েল টায়ার বিবেচনা করা হয়।

আজকাল অধিকাংশ মোটরযানের টায়ারে মেট্রিক পরিমাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। আজকাল টায়ারের পরিমাপও শনাক্তকরণের নিমিত্তে বিভিন্ন ধরনের অক্ষর ও পরিমাণ ব্যবহৃত হয়ে আসছে যা নিম্নের টায়ারের পরিমাপ ব্যাখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু পুরাতন মার্কিং ই আর ৭৮-১৪ এর সমতুল্য মার্কিং হিসেবে আজকাল ব্যবহৃত হচ্ছে পি ১৯৫/৭৫ আর ১৪ এভাবে যার অর্থ দাঁড়ায়

ণি = টায়ারের শ্রেণি ভেদ বুঝায় ।

১৯ = মি.মি. পরিমাণে টায়ারের প্রশস্ততা।

১৪ = ১৪ ইঞ্চি (৩৬৫ মি.মি.) রিম ব্যাস ইত্যাদি ।

৭৫ = প্রোফাইল রেসিও/এসপেক্ট রেসিও।

টায়ারের বিভিন্ন পরিমাপ

টায়ারের সাইজ নির্বাচন ও শনাক্তকরণের লক্ষ্যে সর্বশেষ পর্যায়ে অক্ষর ৩ নাম্বার দ্বারা যে মার্কিং দেওয়া হয় তার ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো পি ১৯৫/৭৫ আর ১৪ কিন্তু এ মার্কিংয়ের যে ভিন্নতা রয়েছে এবং প্রত্যেকটি ভিন্নতা ভিন্ন ভিন্ন যার অর্থ বহন করে তা নিম্নে প্রদান করা পি + যাত্রীবাহী গাড়ির জন্য হলো, যে প্রথম অক্ষর:

টি = সামরিক ব্যবহারের জন্য

সি = ভারী/কমার্শিয়ার গাড়ির জন্য বহনযোগ্য ।

দ্বিতীয় নাম্বারটি হাওয়া দেওয়ার পর টারার যে প্রশস্ততা প্রাপ্ত হয় নির্দেশ করে। এ মাম্বার অনুসারে ও টায়ার তিনটি ভিন্ন পরিমাপের হয়ে থাকে।

 

টায়ার বিনির্দেশক তথ্যাবলি

 

প্রাই রেটিং

কার্ডের গুর/গীচা যাতে টারারের আকৃতিতে রাবার গলিয়ে ভলকানাইজিং মেশিনের সাহায্যে যুক্ত করে দেওয়া হয় ঐ কার্ডের খাঁচাকে পাই বলে। একটি টায়ার প্রস্তুত কালে একাধিক প্লাই ব্যবহার করা হয়। একটি টায়ার এ ২টি হতে ৪০টি পর্যন্ত প্লাই/তর ব্যবহৃত হয়। প্লাই যতবেশি হবে সাধারণত টায়ারের ভার বহন ক্ষমতা তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। প্লাই রেটিং অক্ষরিকভাবে টায়ারের গায়ে ঢালাই করে লেখা থাকে।

যেমন- টায়ারের গায়ে 4PR লেখা থাকে তাহলে বুঝা যায় চার প্লাইয়ের রেডিয়েল টায়ার । অনেক ক্ষেত্রে কার্ডের পুরুত্বের উপর ও প্লাইয়ের ক্ষমতা নির্ভর করে। যদি কার্ডের পুরুত্ব ছবির ন্যায় মোটা হয় তা হলে অনেক ক্ষেত্রেই ২ প্লাইয়ের টায়ারও ৪ প্লাইয়ের সমান ভার বহন করতে সক্ষম হয়। সাধারণত ২ হতে ৪ প্লাই সমৃদ্ধ টায়ার হালকা মোটর গাড়িতে ব্যবহৃত হয়।

৬ হচ্চে ৮ প্লাই সমৃদ্ধ টায়ার বাস, ট্রাক, ভ্যান ইত্যাদির ন্যার মাঝারি ধরনের ভার বহন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়িতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ২০ হতে ৪০ প্লাই সমৃদ্ধ টায়ার কমার্শিয়াল গাড়ি, লরি ট্রাক্টর-এর ন্যায় যানবাহনে হয়ে থাকে।

ভলকানাইজি

যে পদ্ধতিতে টিউবকে পানিতে ডুবিয়ে ছিদ্র স্থান চিহ্নিত করে ছিদ্র স্থানের চার পাশ ঘষে ভলকানাইজিং মেশিনের সাহায্যে কাঁচা রাবারের খণ্ড ছিদ্রযুক্ত স্থানে স্থাপনকরণ কৌশলকে ভলকানাইজিং বলে। যেমন গাড়ির চাকার অভ্যন্তরের টিউবের ছিদ্রকে মেরামত করা ।

ভলকানাইজিং পদ্ধতির বর্ণনা

-টিউব পানিতে ডুবিয়ে ছিদ্র স্থান চিহ্নিত করতে হবে।

-ছিদ্রের ব্যাস ৩মি.মি এর উর্ধ্বে হলে তা অবশ্য ভলকানাইজিং করতে হবে।

-একটি ফাইলের সাহায্যে ছিদ্র স্থানের চার পাশ ঘষে অমসৃণ করতে হবে। -কাঁচা রাবারের উপর হতে খোলস অপসারণ করতে হবে ।

-হস্ত চালিত রাবার ও হাতে এক কোণ ধরে কাঁচা রাবারে খণ্ডসমূহ ছিদ্রযুক্ত স্থানে স্থাপন করতে হবে ।

-এক খণ্ড কাগজ কাঁচা রাবারের উপর স্থাপন করতে হবে।

-এবার ছিদ্রযুক্ত টিউবটিকে ভলকানাইজিং মেশিনের ভাইসে বাঁধতে হবে ।

বৈদ্যুতিক সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় সরবরাহ করতে হবে ।

-বিনির্দেশিত সময় অন্তর টিউবকে ভলকানাইজিং মেশিন হতে অপসারণ করতে হবে।

-টিউববিহীন টায়ারকে একই পদ্ধতিতে ভলকানাইজিং করতে হবে ।

প্রশ্নমালা-২৩

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. টায়ারের গায়ে ঢালাই করে D F ও H অক্ষরলেখা থাকলে তা কী নির্দেশ করে ?

২. প্লাই কী কী অক্ষর দ্বারা নির্দেশ হয় ?

৩. টায়ারের গায়ে খোদাই বা ঢালাই করে পি/১৯৫/৭৫ আর-১৪ লেখা থাকলে তার মানে কী?

৪. প্রোফাইল রেশিও কী?

৫. সাধারণত কয়টি হারে প্রোফাইল রেশিও আছে?

 

google news logo
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. টায়ারের সাইজ শনাক্ত করার কৌশল বর্ণনা কর ।

২. টায়ারের বিভিন্ন পরিমাপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা কর ।

৩. প্লাই রেটিং বলতে কী বোঝায় ?

রচনামূলক প্রশ্ন

১. টিউব ভলকানাইজিং পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা কর ।

২. ভলকানাইজিং পদ্ধতি বর্ণনা কর ।

Leave a Comment